Phone
SSSSSSSSSSSFF
CCCCCCCCCCCCsdd

সময়ে সচেতন হোন _ আবারো বলছি (হাসিব আহমেদ) সেবকের বানী- আজকের খবর

প্রাথমিক শৃঙ্খলা প্রয়োগের প্রভাব
_পর্ব(১)
হাসিব আহমেদ
৩১ মার্চ ২০২০

এই সমস্যা,সেই সমস্যা, আমাদের জীবনে সমস্যার কোন পরিত্রান নাই। নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চলছে আমাদের জীবন। আয়ু ফুরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সমস্যা কখনো থামছে না!
তবে কথায় আছে সমস্যা দিয়েই জীবনের তৃপ্তি বোঝা যায়।
কিন্তু আপনি, আমি যখন কিছু না করে সদা সর্তক থেকেও সমস্যায় পড়ছি? তা কেনো পড়ছি?
সেটাকে ভাগ্যের উপর কিংবা কপালের উপর ছেড়ে দিয়ে চলার সময় তো অনেক পেরিয়ে গেলো! ভাগ্য কিংবা কপাল তো যুক্তি'র সাধারণ সজ্ঞাতেও পড়ে না।
এই আধুনিক যুগে এসে আপনি নিজের বিনা উজড়ে পাওয়া সমস্যাকে কপালের লিখন বলবেন?
পরিসংখ্যান নামক গাণিতিক বিজ্ঞান দ্বারা সমাজ চলছে,রাষ্ট্র চলছে,আপনার অর্থনীতি চলছে, এমনকি মানবিক বিজ্ঞানেও এর ভূমিকা অপরিহার্য।
সেই পরিসংখ্যান বলছে মানুষের নৈতিকতার অপব্যবহারের কারনে আজ মেজরিটি পিউপল নিজেদের জীবনে, তাদের কোন কর্ম কিংবা দ্বায়িত্ব অবহেলা না  করেও বিভিন্ন দৈনন্দিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কার দোষে দুষ্ট তারা?
এরকম সমস্যায় দেশটাও দন্ডিত।
আজকে যদি আমাদের দেশের সমস্যার  কথা লিখতে শুরু করি, আশা রাখি সেটা নিয়ে অনেকদিন ধরে টানা লিখে যাওয়া যাবে। কারন আমাদের দেশের প্রত্যেকটা সমস্যার প্রভাব আমাদের মাঝেও বিদ্যমান। আমরা প্রত্যেকেটা সমস্যার ভেতর আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছি। আমাদের দেশের সব সমস্যার সুত্রপাত যে মাধ্যমকে উপেক্ষা করে হয় তার কথাই আজ লিখবো।

আমাদের দেশের সবথেকে বড় সমস্যার উদ্রেককারী বিষয় হচ্ছে শৃঙ্খলা।
শৃঙ্খলাকে উপেক্ষা করে কখনোই আমরা সমস্যা কমাতে পারবো না। সেটা না আমাদের জীবন থেকে এবং না রাষ্ট্র থেকে।
অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনায় যাব না, খোলা চোখেই দেখা শুরু করা যাক। রাস্তায়,গণপরিবহনে,হাসপাতালে, পাড়া-মহল্লায় যে বিশৃঙ্খলা গুলো ঘটে যায় প্রতিনিয়ত, আপনি আমি আমরা কেও তা অস্বীকার করতে পারবো না।
আমরা প্রতিদিন যারা সাধারন গণপরিবহন ব্যবহার করি তাদের কি চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। দিন শেষে আমরা ঘরে ফিরে দেশ এবং সরকারের সিস্টেমকেই শুধু গাল-মন্দ করি। হ্যা সরকারও আমাদের মতনই বিশৃঙ্খল, তবে সিস্টেমের বেশি একটা সমস্যা সংবিধানে নাই। ব্যবপারটা হলো সংবিধান তো পড়ার জিনিস আর সেটা পড়ে মেনে চলবো তো আপনি আর আমি। সরকারের সিস্টেম বিআরটিসির ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতন দিয়ে দিবে, আর বুঝে পরিচালনা করবো আমরা।

সাধারন গণপরিবহন দিয়েই শুরু করি, এগুলো ব্যবহার করার মতন নিন্ম মানের পর্যায়েও নেই, তার সাথে চাহিদার তুলনায় নগন্য। এই যুক্তি দিয়ে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যেকটা শহরে যাত্রীগন শৃঙ্খলা ভঙ্গকেই নিয়ম হিসেবে মেনে চলেন। আর যিনারা এই পরিবহন পরিচালনা করেন উনারা মানুষরে গরু ছাগল মনে করেন যেমনটা তাদের আমরা শেয়াল মনে করি।

সুস্থ মস্তিষ্ক, আদবকেতা মেনে চলা, কিংবা গড়পড়তা সুস্বাস্থ্যের একজন মানুষের পক্ষে গণপরিবহনে সময় মতন ভ্রমণ করা,
প্রতিদিন নিয়মানুবর্তী হয়েও জুটছে না।
এটা কি খারাপ কপাল?
এই যে মহিলাদেরকে আমরা স্পর্শকাতর করে রেখেছি তাদের কথা আমরা গণপরিবহনে ৬ খানা সিট রাখিয়া বাকিটা ইতিহাস করে দিয়েছি।
বাস বা ট্রেন যখন স্টপেজে বা স্টেশনে এসে থামে তখন কোন জাতীয় অ্যাড্রেনালিন যে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের সারা অঙ্গে সেই পাওয়ারে তারা একজন আরেক জনের ঘাড়ে চেপে বসে, কেও সার্জিও রামোস এর মতন ল্যাং মারে, কেউ জিদানের মতন বুকে হেড দেয়, কেউ নরমালি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, কেও কেও ছাত্রলীগের মতন ব্যবহার করে নিজেদের শারীরিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রদর্শন করে।
কখনো চিন্তা করি না আমার থেকে শারীরিক শক্তি যাদের কম, যারা প্রাপ্তবয়স্ক নন, কিংবা যারা মুরুব্বী উনারা হয়তো আমার থেকে ঘন্টা খানেক আগে এসেছে, তাদের কি নিয়ম বা সিস্টেম অনুযায়ী ভ্রমণ করার সুযোগটা আগে পাবার কথা নয়?
একজন মা,একজন বোন,একজন খালা-চাচী,একজন প্রেমিকা, একজন দাদী-নানী উনারা না এমন উশৃংখল  অসুস্থতায় অভ্যস্ত নন।
কারণ ভিড়ের মধ্যে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত তো তাদেরই হতে হয়, কেউ তাঁদের জামা কাপড় কেঁটে দেয়, কেও নোংরা স্পর্শ লেপে দেয় আজীবনের জন্য।
আমার গায়ের জোর বেশি, আমি আগে বাসের দরজার হ্যান্ডেল ধরতে পারলেই হইলো।
আপনার এমন মনোভাবের জন্য কত লোকের প্রতিদিনের লেইট কাউন্ট হচ্ছে, কারো চাকরি চলে যাচ্ছে, কারো ব্যবসা লাটে উঠে যাচ্ছে।
এসব তো গেলো অর্থনৈতিক ব্যাপার যা পূরন করা যাবে। মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি গুলো যা ঘটে তা নিয়ে একেকজন আজীবন বিনা দোষে দন্ডভোগী হয়ে কাটায়।
কত মানুষের মৃতু সজ্জায় থাকা আপন জনের  শেষ জীবিত মুখটা দেখা হয় না হাসপাতালে সময় মতন না পৌছানোর কারনে,
কত লোক সৎকারের আগে সময় মতন পৌছাতে না পেরে শেষবারের মতন মুখটাও দেখতে পারেন না, রক্ত জোগাড় করে ফিরে এসে সেই রক্ত আর প্রোয়জন হয়না,
১২ বছরের অধ্যাবসায় এর পরেও যে পরীক্ষায় সময় মতন পৌছাতে না পেরে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়,
এসবের জন্য দায়ী কে? দায়টা না নিতে চাইলে না নিই, কিন্তু একটু লজ্জা নেই আজ আমরা, মানুষ তো  আমরা নিন না কিছুটা লজ্জা না হয় এবার!

আমরা গরীব দেশের মানুষ মেনে নেই এটা, কিন্তু  ভাঙাচোড়া ব্যবস্থাপনা যাতে না মেনে নেই। আমাদের যাই আছে গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে, সেটাকে যদি আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে সিরিয়াল মেইনটেইন করে ব্যবহার করি তাতে আমাদের সময় এবং শ্রম কোনটাই দিতে হয় না। হয়তো কখনো সিস্টেম ইরোরের কারনে ১০,২০ মিনিট অপেক্ষা করা লাগতে পারে, সেটা নাও তো লাগতে পারে।
আমার আপনার একটু ধৈর্য,একটু একাগ্রতা, একটু সচেতনতা, একটু নিয়মানুবর্তিতা, খুব সামান্য পরিমাণের শ্রদ্ধার মানবিকতাটা আশা করি। এই সামান্য পরিবর্তন কতটা প্রশান্তি এনে দিতে পারে আমাদের জীবনে সেটার সুখ পোহাতে যা আরাম পাবেন তা শীতে আগুনেও হয় না।
এই বেসিক ডিসিপ্লিনের জন্য আর কারো মুখে দুঃখের বাড়তি বোঝা চাপবে না, আমরা জ্যামে পড়ে আছি সেটা সড়কের না মূল্যবোধের। আমার আপনার মূল্যবোধের বিকাশ ঘটলে, এই দেশের সমস্যাও দূর হবে।
ভালো থাকুক জন জীবন, যত্নতে চর্চা থাকুক সকল প্রাণে।


 সেবকের বানী-
       সৌজন্যে- হাসিব আহমেদ
           ঢাকা, বাংলাদেশ




Consulting Creed AAAAAAAA !

DDDDDDDDDDD & EEEEEEEEEE: